লালমাইয়ের রুবির প্রতারণায় নিঃস্ব একাধিক পুরুষ

প্রকাশিত: ১১:৪৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২৫
লালমাইয়ের রুবির প্রতারণায় নিঃস্ব একাধিক পুরুষ

প্রবাসী নিউজ টিভি ডেস্ক:

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার মগের কলমিয়া গ্রামের তালেব মিয়ার মেয়ে রুবি আক্তারের বিরুদ্ধে একাধিক পুরুষকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা ও মূল্যবান সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে চান্দিনা উপজেলার মহারল গ্রামের মো. জহিরের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রুবির। তবে সেই সংসার থাকা অবস্থায়ই তিনি নিজের ভাতিজার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং পরে তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু স্বামী সোহাগ হোসেন বিদেশে চলে গেলে, রুবি আরও একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

সোহাগকে কিছু বুঝতে না দিয়ে তিনি নিয়মিত তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিতেন। ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ সোহাগ দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলে, রুবি একটি প্রোবক্স মাইক্রোবাস ভাড়া করে তার প্রেমিক ও আরও দুজনকে নিয়ে বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে গাড়িতে তুলে চান্দিনায় না নিয়ে লালমাই উপজেলার দত্তপুর এলাকায় নিয়ে আসেন।

পথে একটি জায়গায় পানি আনার কথা বলে সোহাগকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে তার স্বর্ণালঙ্কার (৩ ভরি), নগদ ১,৫০,০০০ টাকা এবং ভিসা-পাসপোর্টসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যান।

পরে সোহাগ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের সহযোগিতায় দত্তপুর এলাকার এক বাসা থেকে তার পাসপোর্ট ও কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়। তবে বাকি মালামাল ও টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে তা আর ফেরত দেননি রুবি।

এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার সোহাগ অভিযোগ করেন, রুবি তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করেছেন এবং তার পরিবার প্রতারণার এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া, তার পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, সোহাগের মা শিরিন বেগম ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ লালমাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে আরও অনেকে তাদের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে পারবেন।

ভুক্তভোগী সোহাগ বলেন, “রুবি প্রথমে আমার চাচার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, পরে আমাকেও একইভাবে প্রতারিত করেছে। আমি জানতে পেরেছি, এটা তার পেশা। সে আরও অনেকের জীবন নষ্ট করেছে। তার বিচার হওয়া উচিত, যাতে আর কেউ প্রতারিত না হয়।”

এ বিষয়ে লালমাই থানার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।